পুরুষত্বহীনতা

পুরুষ এবং যৌনতা সমার্থক। নারীর সাথে যৌনতা পুরুষের অন্যতম প্রধান শারীরিক ক্ষমতার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। কিন্তু প্রায় প্রতিটি পুরুষের জীবনেই এমন একটা সময় আসে যখন তারা অযাচিত বিষয় নিয়ে দুশ্চিন্তাস্ত হয়ে পড়ে। এটা হলো পুরুষের উত্তেজনা সংক্রান্ত একটা ব্যাপার। যখন আপনি খুব উর্বশী, আকর্ষণীয় কোনো নারীর সাথে বিছানায় যাচ্ছেন অথচ আপনার পুরুষাঙ্গ মোটেই উত্তেজিত হচ্ছে না, তখন দুশ্চিন্তা দুর্ভাবনায় আপনার অবস্থা শোচনীয়। এটাকে অনেকে পুরুষত্বহীনতা মনে করতে পারে। অথচ ব্যাপারটি খুবই সাধারণ। লিঙ্গ উত্তেজিত না হলেই আপনি অসমর্থ পুরুষ এই ধ্যান ধারণা আধুনিক ডাক্তারি বিজ্ঞান মেনে নেয় না।

উত্তেজনার শুরু

বহু পরীক্ষায় দেখা গেছে, উত্তেজনার বিষয়টি পুরোপুরি মানসিক দৃঢ়তার ওপর নির্ভর করে। আপনার লিঙ্গ উত্তেজিত করতে নার্ভাসনেস কাটাতে হবে। অনেক যৌনকর্মকে ভীতির চোখে দেখেন। ভয়ে তাদের উত্তেজনা আসে না। ব্যাপারটি নিতান্তই অবিজ্ঞানসুলভ। প্রধানত মস্তিস্ক থেকে উত্তেজনার শুরু। যখন যৌনবোধের স্ফুরণ ঘটতে থাকে মাথায়, ঠিক তখনই শরীরের স্পাইনাল কর্ডের মাধ্যমে শরীরের যৌনতা জাগায় এবং পুরুষাঙ্গে উত্তেজনা ভর করতে থাকে।

যৌন উত্তেজনা জাগার আগে লক্ষ লক্ষ ক্ষুদ্র রক্তনালী যা পুরুষাঙ্গে বর্তমান- তা লক্ষ লক্ষ ক্ষুদ্র ভাল্বকে বন্ধ রাখে। উত্তেজনা জাগার সাথে সাথে এই ভাল্বগুলো থেকে কমপক্ষে আটবার রক্তপ্রবাহ ঘটে। এতে করে ক্ষুদ্র রক্তনালীগুলো দৃঢ় হয় এবং সেই সাথে পুরুষাঙ্গও সুদৃঢ় হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে পুরুষদের অন্তর্নিহিত দুর্বলতা হেতু তাদের উত্তেজনায় বিঘœ ঘটছে। কিন্তু ভেতরকার কার্যক্রম অর্থাৎ পুরুষাঙ্গ উত্থান সংক্রান্ত কোনো সমস্যা আসলে খুব একটা হয় না। বিশেষজ্ঞরা সাধারণ পরিস্থিতিতে পুরুষত্বহীনতা জাতীয় একটা বিষয় পরীক্ষা করে দেখেছেন যে, শতকরা ১৫ ভাগ বিশেষ মুহূর্তে উত্তেজনাহীন হয়ে পড়ে। এটা তাদের মনোদুর্বলতা বৈ আর কিছু নয়।

মানসিক অশান্তি এবং উত্থান

মানসিক টেনশন আপনার উত্তেজনা হ্রাসের জন্য দায়ী। পুরুষাঙ্গের নরম টিস্যুগুলোও তখন আপনার মনের অস্থিরতার সঙ্গে নেতিয়ে পড়ে। রক্তপ্রবাহ সঠিকভাবে না হলে উত্তেজনা তুঙ্গে উঠে না। কিন্তু মানসিক অশান্তি কিংবা শারীরিক অবসাদ এটা রক্তপ্রবাহের গতিরোধ করে, এর ফলে লিঙ্গ উত্তেজিত হয় না।

সমাধান

আপনার সঙ্গিনীর সাথে যৌন মিলনের সময় অবসাদের কথা ভুলে যান। খোলামনে, খুশি মনে তার সাথে যৌনমিলন ঘটানো অথবা সঙ্গিনীকে বলুন আপনার উত্তেজনাকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যেতে। বিছানায় শুয়ে কাজ কর্ম এবং অবসাদের কথা ভুলে যাওয়াই শ্রেয়।

মনের উচ্ছাস এবং উত্থান

সঙ্গিনীর সাথে শুধু যৌন মিলনই শেষ কথা না, অবসাদ কাটাতে হলে আপনাকে কিছু পরিত্যাগ করতে হবে। কেননা এটি আপনার মনের পাশাপাশি শরীরের ওপরও প্রভাব ফেলবে।

সমাধান

দৈনন্দিন অভ্যাসের বা কাজ-কর্মের একটু পরিবর্তন ঘটান। দুজন মিলে একসাথে গোসল করুন। সঙ্গিনীর সাথে সরাসরি যৌন মিলনে না গিয়ে যৌন উত্তেজক কথাবার্তা বলুন। এতে করে শরীর এবং মন দুটোই উত্তেজিত হবে এক সাথে।

নিজের সাহায্য নিজেই এবং উত্থান

উত্থান সংক্রান্ত সমস্যার জন্য আপনার নিজেরও কিছু ভূমিকা থাকে। আপনি উত্তেজনার জন্য যেভাবে অভ্যস্ত হতে চান, মনে হয় তার কিছু পরিবর্তন দরকার। যা আপনাকে কার্যত সমস্যা সমাধানে সাহায্য করবে।

সমাধান

মাষ্টারবেশন বা হস্তমৈথুন এক্ষেত্রে উপকারী। সঙ্গিনীকে বলুন তার হাতের মাধ্যমে আপনার অঙ্গকে উত্তেজিত করতে। অঙ্গকে উত্তেজিত করতে এটা যৌন মিলনের চেয়েও বেশি ফলপ্রসূ হতে পারে। কখনো কখনো।

বিষন্নতা এবং উত্থান

বিষন্নতা সকল প্রকার উত্তেজনাকে স্তিমিত করে দেয়। বিষন্নতা মূলত মানসিক রোগ। এর মাধ্যমে আপনার যৌন উত্তেজনা একেবারেই কমে যায়। খুবই স্পর্শকাতর বিষয় বলে এ ব্যাপারটাকে আমল দেয়া উচিত।

সমাধান

পাশ্চাত্যে ভায়াগ্রা বিষন্নতা দূরীকরণে সাহায্য করছে। অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ এতে গ্রহণ করা উচিত।


0 comments:

 
TIPS FOR ADULS © 2010 Mobilekotha Powered By ROSESAJIB