নারীর ডিম্বানুকোষ

মানুষ উদ্ভুত হয় উর্বরকৃত একটি কোষ থেকে। ওই কোষটি উর্বর হওয়ার সাথে সাথে বিশ্লিষ্ট হয় দুটি অভিন্ন কোষে ওই কোষ দুইটি আবার বিশ্লিষ্ট হয়ে সৃষ্টি করে চারটি অভিন্ন কোষ। এভাবে যেগুলো বার বার বিশ্লিষ্ট হ'তে ও সৃষ্টি করতে থাকে অসংখ্য নতুন কোষ। এসব কোষ উদ্ভৃত হয় মাত্র একটি গর্ভবতী ডিম্বানু থেকে এবং এসব কোষের প্রত্যেকটি ধারণ করে অজস্র তথ্য। এসব তথ্যের অর্ধেক আসে জনকের কাছ থেকে যে শুক্রাদুটির মধ্য দিয়ে যেটি গর্ভবতী করেছে ডিম্বানুটিকে। বাকি অর্ধেক আসে জননীর কাছ থেকে ওই ডিম্বানুর মধ্যদিয়েই, প্রত্যেকটি কোষপালন করে একরাশ দায়িত্ব। কোষটিকে কী কাজ করতে হবে তা নির্দেশ করা থাকে প্রত্যেকটি কোষের কেন্দ্রস্থিত এক ধরনের পাকানো বস্তুতে। ওই পাকানো বস্তুর নাম ক্রোমোসোন।

মানবশরীরের প্রতিটি কোষে থাকে ৪৬টি ক্রোমোসোম। তবে এর ব্যতিক্রম দুটি কোষ একটি নারীদেহের ডিম্বনুকোষে অন্যটি পুরুষদেহের শুক্রানুকোষ। ৪৬টি মধ্যে ৪৪টি ক্রোমোসোম নিয়ন্ত্রণ করে মানুষের শুস্ত শারীরিক বৈশিষ্ট্য ও ক্রিয়া কলাপ। এই ৪৪টি ক্রোমোসোমের নাম অটোসোম। বাকি ২টি স্থির করে লিঙ্গ, এ দুটি লিঙ্গ ক্রোমোসোম। লিঙ্গ ক্রোমোসোম দুইটির একটিকে বলা হয় ঢএক্সলিঙ্গ ক্রোমোসোম, অন্যটিকে বলা হয় ণ লিঙ্গ ক্রোমোসোম। নারীশরীরের কোটি কোটি কোষের প্রত্যেকটিতে রয়েছে ৪৪টি অটোসোম এবং ২টি ঢ ক্রোমোসোম পুরুষ শরীরের প্রত্যেকটি কোষে রয়েছে ৪৪ টি অটোসোম এবং ১টি ঢ ও ১টি ণ ক্রোমোসোম। নারী হচ্ছে ৪৪টি অটোসোম + ঢঢ, ও পুরুষ হচ্ছে ৪৪টি অটোসোম +ঢণ, নারী পুরুষের পার্থক্য একটি লিঙ্গ ক্রোমোসোম। নারী পুরুষের শরীরের প্রত্যেকটি কোষেই রয়েছে ৪৬টি ক্রোমোসোম। শুধু নারীর ডিম্বানুকোষ আর পুরুষের শুক্রানুকোষ এর ব্যতিক্রম, এ দুইটিতে ৪৬টি ক্রোমোসোম নেই। আছে মাত্র ২৩টি ক্রোমোসোম। তাই এদুটির আচরন ও ভিন্ন পুরুষ-নারীর থেকে ভিন্ন শুধু একটি ণ ক্রোমোসনের জন্য। এটিই ঠিক করে দেয় সন্তানটি হবে পুরুষ না নারী। নারীর ডিম্বানু আদিম কোষ তা ডিম্বাশয় জন্ম নেয় নারীর জন্মের অনেক আগে পরে আর একটি ডিম্বানু ও জন্মে না। নারীর প্রতিটি ডিম্বানুতে থাকে ২৩টি ক্রোমোসোম ও ২২টি অটোসোম ও ১টি ঢ ক্রোমোসোম। নিষিক্তির সময় বড়ো কোষটি শুক্রানুর মাথাটিকে নিজের ভেতরে টেনে নিয়ে সৃষ্টি করে সন্তান। পুরুষের প্রতিটি পরিপক শুক্রানুতে থাকে ২৩টি ক্রোমোসোম, যার মধ্যে ২২টি অটোসোম এবং ১টি লিঙ্গ ক্রোমোসোম। শুক্রানুর লিঙ্গ ক্রোমোসোমে থাকতে পারে ১টি ঢ ক্রোমোসোম, বা ১টি ণ ক্রোমোসোম। পুরুষের কোটি কোটি শুক্রানুকে যদি দুভাগে ভাগ করা হয় তাহলে এক ভাগের শুক্রানুতে থাকে ২২টি অটোসোম ও ১টি ঢ ক্রোমোসোম এবং আগেরভাগের শুক্রানুতে থাকে ২২টি অটোসোম ও ১টি ণ ক্রোমোসোম। তাই যখন কোন ণ ক্রোমোসোমাবহী শুক্রানু কোন ডিম্বানুকে উর্বর করে তখন নতুন কোষটিতে থাকে ৪৪টি অটোসোম এবং ১টি ঢ ক্রোমোসোম ও ১টি ণ ক্রোমোসোম। এর ফলে যে শিশু জন্ম নেয় সে হয় ছেলে। আর যদি ১টি ঢ ক্রোমোসোমবাহী শুক্রানু ডিম্বানুতে উর্ভর করে তাহলে নতুন কোষটিতে থাকে ৪৪টি অটোসোম ও ২টি ঢ ক্রোমোসোম। ফলে সন্তানটি হয় মেয়ে। তাই পিতাই নিয়ন্ত্রন করে সন্তানের লিঙ্গ মাতা নয়।


0 comments:

 
TIPS FOR ADULS © 2010 Mobilekotha Powered By ROSESAJIB